বাগেরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দুই চিকিৎসক অসুস্থ, স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত

jbfgjbh.jpg

বাগেরহাট প্রতিনিধি, prabartan | প্রকাশিত : ২১:২৯, ১১-০২-১৯

 

বাগেরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের দুই চিকিৎসক অসুস্থ থাকায় ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। শহরে অবস্থিত জেলার একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ২ শতাধিক শিশু ও প্রসূতি মা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে কেন্দ্রের দুইজন চিকিৎসক অসুস্থ্য থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। তবে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলছেন জনবল সংকট পূরণ ও নতুন চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হলে পর্যাপ্ত সেবা পাবেন রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে হাসপাতালটি স্থাপিত হওয়ার পর একজন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) এবং ডেপুটেশনে একজন মেডিকেল অফিসার (এ্যানস্থেশিয়া) দিয়ে চলত। প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পরেও সেই জনবলে চলছে হাসপাতাল। এদিকে ৬ জানুয়ারী কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় হার্ট এ্যাটাক করেন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা, আব্দুস সামাদ।তারপর থেকে অদ্যবধি তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হার্টের সমস্যার কারণে ১৫ জানুয়ারি থেকে মেডিকেল অফিসার (এ্যানস্থেশিয়া) অনিল কুমার কুন্ডু কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ অবস্থায় কোনমতে চিকিৎসা সেবা দিতে ২৯ জানুয়ারি একজন মেডিকেল অফিসারকে পদায়ন করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি থেকে এ হাসপাতালে সিজারে ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। জেলার একমাত্র মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এমন বেহাল দশায় মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা য়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিশু ও প্রসূতি মায়েরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এসময় তারা বলেন, আমরা চিকিৎসা নিতে এসে বাচ্চা ও মায়েদের ফিরে যেতে হচ্ছে অন্য জায়গায়। চিকিৎসক সংকটের কারণে আবাসিক বেডগুলো খালি পড়ে আছে চিকিৎসা কেন্দ্রটির। ১৯৯৫ সালে পাওয়া একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটিও এখন বয়সের ভাড়ে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। রাস্তায় বেড় হলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান এ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ হেমায়েত উদ্দিন।

সদর উপজেলার সুলতানপুর থেকে মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে আসছি। দুইদিন হল এ হাসপাতালে এসে ঘুরে গেলাম। চিকিৎসক না থাকায় স্ত্রীকে দেখাতে পারলাম না। এখন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হবে। জেসমিন বেগম বলেন, ছেলের চোখের সমস্যা নিয়ে আসছিলাম। কিন্তু ডাক্তার আপা চক্ষু হাসপাতালে যেতে বললেন। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) নুরুন্নাহার বলেন, আমাদের এখানে যেসব প্রসূতি মায়েরা আসছে, আমরা তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে চেষ্টা করছি। জানুয়ারি মাসেও এখানে শতাধিক নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। এ্যাম্বুলেন্স চালক মোঃ হেমায়েত উদ্দিন বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে রাস্তায় বের হলে মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। তখন খুব বিরম্বনায় পড়তে হয়। জোড়াতালি দিয়ে কোন মতে চালিয়ে যাচ্ছি এ্যাম্বুলেন্সটি। একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স পেলে রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারব।

সদ্য যোগদানকৃত মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পি বোস বলেন, হঠাৎ করে এখানে কর্তব্যরত দুইজন চিকিৎসক অসুস্থ্য হওয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হওয়ায় আমাকে কর্তৃপক্ষ এখানে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠিয়েছেন। আমি রোগীদের স্বাধ্যমত সর্বোচ্চ সেবা দানের চেষ্টা করছি।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসারের স্থায়ী পদ এবং একজন মেডিকেল অফিসার (এ্যানস্থেসিয়া) কে সংযুক্ত রাখা হয়। যা এধরণের একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য খুবই অপ্রতুল। তাই রোগীদের সেবা দিতে অর্গানোগ্রাম সংশোধন করে চিকিৎসক ও সেবিকাদের পদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে অসুস্থ হওয়ায় কর্তব্যরত দুইজন চিকিৎসকের ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছে, তারা চিকিৎসাধীণ রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য সেবা দিতে সদর উপজেলা মেডিকেল অফিসার শিল্পি বোসকে ডেপুটেশনে দেয়া হয়েছে। এ্যাম্বুলেন্সটির বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি বলে জানান তিনি।

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top