যমুনার চরে ফসলের বিপ্লব, যে ভাবে এলো সাফল্য

vchvdshfbvsh.jpg

যমুনার চরে ফসলের বিপ্লব, যে ভাবে এলো সাফল্য

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | প্রকাশিত: ৮:০৬  পিএম, ৯-২-১৯

 

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় যমুনা নদীর চরে রবি ফসলের বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষকরা। ক্রমশ পাল্টে দিচ্ছেন যমুনার চিত্র। শুষ্ক মৌসুমে যমুনার বুকে জেগে উঠা চরের অস্তিত্ব স্বাভাবিক মনে হলেও তা এখন ভিন্নরূপ ধারণ করেছে।

এরমধ্যেই নদীতে জেগে উঠা অনেক চরের বিস্তৃতি বৃদ্ধির পাশাপাশি তা স্থায়ী চরে পরিণত হয়েছে। এক সময় যমুনা নদী ছিল এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ। এখন সে নদীর চরে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ভাগ্য পরিবর্তন করছে কৃষকরা।

সাঘাটা উপজেলায় যমুনার চরে আমন ও বোরো ধানের আবাদ না হলেও রবি ফসলের চাষ করে বাম্পার ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে চর গুলোতে বন্যার পানি না ওঠায় সেখানে স্থায়ী বসতি গড়েছে চরবাসী। কিছুদিন আগেই ছিল যেখানে জনবসতিহীন দুর্গম চর সেখানেই বসেছে প্রাণের মেলা। এখন দেখা মেলে চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সবুজ ফসলের সরব উপস্থিতি।

এক সময়ের সাদা বালুচরে পলিমাটির স্তর পড়ে এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। বৈদ্যুতিক সেচ ব্যবস্থা না থাকলেও ইঞ্জিনচালিত মেশিনের সাহায্যে জমিতে সেচ দিয়ে ভুট্টা, গম, জব, চিনা, কাউন, কালোজিরা, কুমড়া, লাউ, টমেটো, মূলা, আলু, পালংশাক,  লালশাক, বেগুন, পিয়াজ, মরিচ, শসা, শিম, করলা, গাজর, ধনিয়া বিভিন্ন সবজি চাষ করছে কৃষকরা।

গাড়ামারা চরের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর এক একর জমি থেকে ১২০ মণ ভুট্টা ঘরে তুলেছি। এবার ওই জমিতেই বাম্পার ফলনের আশা করছি।

কৃষক আব্দুল জোব্বার বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পূর্ব পুরুষদের ভেঙ্গে যাওয়া জমিতে নতুন উদ্যোমে চাষ শুরু করেছি। প্রথম দিকে চরের জমিতে শুধু কালাই, চিনা, কাউন, বাদাম, তিলের চাষ করলেও এখন রীতিমতো ভুট্টা, গমের আবাদ করছি। এ থেকেই ভালো আয় করেছি।

সাঘাটা উপজেলার এ চরগুলোর পূর্বে জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও দক্ষিণে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার সীমানা জুড়ে জেগে উঠেছে এসব চর। কিন্তু জেগে ওঠা এসব জমির সঠিক কোন পরিসংখ্যান কিংবা তথ্য স্থানীয় কৃষি দফতরগুলোতে নেই। এমনকি এ সমস্ত জমির ভোগ দখলকারীরাও জানে না তাদের জমিগুলোর সঠিক পরিমাপ ও সীমানা কোথায়।

পাতিলবাড়ী চরের কৃষক মনির হোসেন বলেন, ছোট থাকতে বয়সে এসব জমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছিল। বিলীন হওয়া জমিগুলো আবারো জেগে উঠে আবাদি জমিতে পরিণত হতে পারে তা কখনো ভাবিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম বলেন, চরে কৃষকদের ক্ষেত সম্প্রতি ঘুরে এসেছি। মূল জমির চেয়ে এসব চরে ফলন অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চরের জমিতে কৃষকরা ফসল ফলাবে কল্পনাও করা যায় না। এখনো যেসব পরিত্যক্ত জমি রয়েছে সেগুলো চাষের আওতায় আনা হলে এসব চরে ভুট্টা ও গম চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৬, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top