খাশোগির ওপর ‘একটি বুলেট’ ব্যবহার করব: সালমান

Year-Before-Killing-Saudi-Prince-Told-Aide-He-Would-Use-a-Bullet-on-Jamal-Khashoggi-1902080645.jpg

খাশোগির ওপর ‘একটি বুলেট’ ব্যবহার করব: সালমান

ডেস্ক রিপোর্ট | প্রকাশিত: ৬:০৫, ৮-২-১৯

 

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগি হত্যার এক বছর আগে ২০১৭ সালেই তার এক উচ্চপদস্থ সহযোগীর সাথে আলাপচারিতায় বলেছিলেন, ‘জামাল খাশোগির ওপর তিনি একটি বুলেট ব্যবহার করবেন, যদি সে সৌদি ফিরে না আসে ও সরকার নিয়ে তার সমালোচনা বন্ধ না করে।

খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে হওয়া গোয়েন্দা তদন্তগুলো সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান রয়েছে এমন একাধিক মার্কিন ও বিদেশি কর্মকর্তারা চাঞ্চল্যকর এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে সৌদির পাঠানো গুপ্ত ঘাতক দল খাশোগিকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে খুন করে তার দেহ করাত দিয়ে কেঁটে টুকরো টুকরো করার পর এসিড দিয়ে তা গলিয়ে নিঃশেষ করে দেয়ার অনেক আগেই যে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো, মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর সংগ্রহকৃত এ কথোপকথন এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বিস্তারিত প্রমাণ।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ওয়াশিংটনের আইনপ্রণেতারা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বের করতে তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন>>: কলকাতায় দুধের লিটার ১৫০টাকা, গরুর মূত্র ৩৫০ টাকা!

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সরসরি জড়িত থাকা সৌদি ঘাতক দলের সদস্যরা দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের একদমই ঘনিষ্ঠ ও নিজস্ব লোক হওয়া সত্বেও সৌদি সরকার এ ঘটনায় ক্রাউন প্রিন্সের জড়িত থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও জনসম্মুখে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত পক্ষেকে জড়িত ও কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে তা উন্মোচনে কিছুটা অনাগ্রহী দেখা গেছে।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যিনি এমবিএস নামেও পরিচিত, তিনি সৌদি আরবের ভবিষ্যত বাদশাহ। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশেষ করে তার জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তার বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের কর্মকর্তারাই যে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত দল।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক যখন ওই ঘটনার তদন্ত করার উদ্যোগ নেয় তখন সৌদি আরব বাঁধা দেয়ার সব চেষ্টা করেছে।

প্রসঙ্গত, সৌদি সরকার তথা প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যা করা হয়। প্রথমদিকে সৌদি আরব ঘটনাটিই অস্বীকার করেছিল। পরে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে হত্যার কথা স্বীকার করে নেয়। যদিও তারা বলছে, এই হত্যার সঙ্গে যুবরাজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু এর আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতেও বলা হয়েছে, খাশোগি হত্যার জন্য যুবরাজই দায়ী।

তবে বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিশেষ করে তার জামাতা ও উপদেষ্টা জারেদ কুশনারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এ ব্যাপারে শুরু থেকেই উদাসীনতা প্রদশন করে আসছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর তুরস্কের কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে যখন রোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসে, তখন সৃষ্টি হয় বিশ্বজুড়ে তোলপাড়।

জাতিসংঘ তদন্ত দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যার ঘটনার যখন ১৩ দিন হয়, তখনও তুরস্কের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। এভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল সৌদি আরবের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব ১১ জনকে বিচারের মুখোমুখি করেছে এবং তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে। যদিও এসবের আশপাশে নেই ‘মূল অভিযু্ক্ত’ সৌদি যুবরাজের নাম।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৮০৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top