ডুমুরিয়ায় প্রায় ৩’শ একর ইরি-বোরো আবাদ অনিশ্চিত

zbjhg.jpg

ডুমুরিয়ায় প্রায় ৩’শ একর ইরি-বোরো আবাদ অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, Prabartan | প্রকাশিত: ১১:৩৩ পিএম, ৬-২-১৯

খুলনার ডুমুরিয়ায় ইরি বোরো মৌসুমের শুরুতেই এবার শোলমারী স্লুইজ গেটের নষ্ট কপাট ওভারফ্লো হয়ে ভিতরে লবন পানি প্রবেশে করছে। ফলে, প্রায় ৩’শ একর জমির বোরো আবাদ এখন অনিশ্চিত দেখা দিয়েছে। বেহেস্তে যেতে বসেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। উপায়ন্ত না পেরে প্রতিকারের আশায় ভুক্তভোগী কৃষকরা বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ ধরে লোলিট পাম্পের (এলএলপি) মাধ্যমে শোলমারী নদীর পানি দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা ইরি-বোরো চাষাবাদ করে আসছে। ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ওই নদী সংলগ্ন টিয়াবুনিয়া, জিলেরডাঙ্গা, পঞ্চু, ভেল্কামারী, জেলেরডাঙ্গা, বড়ডাঙ্গা, গুটুদিয়া, পাটকেলপোতা, বগারখোর, কালিদাশপুর, পাশখালী, বিলপাবলা, খড়িয়াসহ আশপাশ এলাকায় প্রায় ৩’শ একর জমিতে এবার ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু শোলমারীর ১০ ভেন্টের স্লুইজ গেটের কপাট নষ্ট হওয়াতে ওভারফ্লো হয়ে বেপোরোয়াভাবে লবন পানি ঢুকছে। আর এতে নদীর মিষ্টি পানি একেবারই লবন হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের সোনালি স্বপ্ন এখন বেহেস্তে যেতে বসেছে। দীর্ঘ ১৫দিন জমিতে পানি তুলতে না পারায় অনেক বোরো ধানের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিবাদল না থাকাতে অনেকের ঘের বেড়ির টপে থাকা পানিও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

গেটের দায়িত্ব থাকা গেট খালাশী মমিন মোল্যা বলেন, গেট দিয়ে পানি উঠানো হয়নি। তবে কপাটে রাবার না থাকায় প্রতিদিন ওভারফ্লো হয়ে ভিতরে পানি ঢুকছে। তবে তিনি বিষয়টি তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

এ প্রসঙ্গে কৃষক শান্তুনু মন্ডল বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ করেছি। সব বছরই নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করে থাকি। এবার ইরি চাষের শুরুতেই নদীর মিষ্টি পানি লবন হয়ে গেছে। ঘেরের টপে যে পানি ছিলো তাও প্রায় শেষ। সময়মত পানি দিতে না পারলে ফসল ফলানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ঋণগ্রস্থ হয়ে জমি করেছি। ফসল না ফললে বড় ধরণের বিপদে পড়বো।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (গুটুদিয়া ব্লকের) তুষার কান্তি বিশ্বাস বলেন, ইরি-বোরো ধান চাষাবাদে লবনাক্ত পানি কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত এর সুরহা করার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। শুনেছি গেটের কপাটের রাবার নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওভারফ্লো হয়ে ভিতরে পানি প্রবেশ করছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে।

 

বাংলাদেশ সময়: ২৩৩৩, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top