বাগেরহাট সরকারি গণগ্রন্থাগারে বই আছে কিন্তু পাঠক নেই

cbdfgberjgub.jpg

এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট | প্রকাশিত: ১২:০১, ২-২-১৯

 

বাগেরহাট : বাগেরহাট সরকারি গণগ্রন্থাগারে হাজার হাজার বই থাকলেও নেই পাঠক। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বইগুলো থেকে যায় অপাঠ্য। পাঠক যারা আসেন তারা বেশির ভাগই খবরের কাগজ পড়তে আসেন। মোবাইলে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার অন্যতম কারন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে এই গণগ্রন্থাগারের কর্মকর্তারা পাঠক কমার বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন জনসংখ্যার তুলনায় পাঠক বাড়েনি।

বাগেরহাট সরকারি গ্রন্থাগার সুত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে মহাকুমা তথ্য কেন্দ্র নামে বাগেরহাট শহরের বর্তমান শালতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে যাত্রা শুরু হয় এই পাঠাগারটি। পরে ১৯৮৪ সালে জেলা সরকারী পাবলিক লাইব্রেরীতে রুপ নেই এটি। অবশেষে ২০০১ সালে শহরের সরুই এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমির ওপর একতলা বিশিষ্ট নিজস্ব ভবনে গণগ্রন্থাগারটির কার্যক্রম শুরু হয়।

দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপীট সরকারী পিসি কলেজ থেকে এই গ্রন্থাগারটি মাত্র আধা কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। এছাড়া বাগেরহাট সরকারী মহিলা কলেজ থেকে ৫শ গজ, সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১শ গজ, সরকারী বালক বিদ্যালয় থেকে আধা কিলোমিটার দুরে এর অবস্থান।

এখানে মোট ২৯ হাজার ৯শ ৩০টি বই আছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ধর্মীয়, অভিধানসহ ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন বই। প্রতিদিন ৯টি বাংলা, ১টি ইংরেজী দৈনিক সংবাদপত্র ও মাসে ১০টি ম্যাগাজিন রাখা হয় এখানে। এক সঙ্গে ৯৬ জন পাঠক নিরিবিলি পরিবেশে বসে বই পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই গণগ্রন্থাগারটি। রয়েছে পরিপাটি পরিবেশে পড়ার পরিবেশ। কিন্তু এখানে রয়েছে পাঠকের অভাব ।
লাইব্রেরীয়ান, লাইব্রেরী এ্যাসিষ্টান্ট, অফিস সহায়ক কাম নিরাপত্তা প্রহরীসহ ৩ জন কর্মরত রয়েছেন। পদশুন্য রয়েছে জুনিয়র লাইব্রেরীয়ানের।

গত কয়েকদিনে বিভিন্ন সময় গণগ্রন্থাগারটিতে গিয়ে দেখাগেছে, কোন সময় একজন পাঠক বসে পত্রিকা পড়ছেন। কোন সময় ৫/৬ জন পাঠক পত্রিকা পড়ছেন। কোন সময় ১০/১২ জন পত্রিকা পড়ছেন ১/৩ বই পড়ছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে এই গণগ্রন্থগারে কোন পাঠক রেজিস্টার খাতা নেই। এজন্য পাঠকের প্রতিদিনের প্রকৃত সংখ্যা বলা যাবে না। এখানে মাস শেষে টালীর মাধ্যমে পাঠক উপস্থিতি নির্ধারণ করা হয়।

গণগ্রন্থাগারের পত্রিকা পড়তে আসা পাঠক শহরের হরিণখানা এলাকার নিয়াজ পারভেজ বলেন, ‘লেখাপড়া শেষ করে চাকুরীর আশায় আছি। মুলতঃ গণগ্রন্থাগারে পত্রিকা পড়ার জন্য আসি। এখানে এসে চাকুরীর বিজ্ঞাপনের পত্রিকাসহ কয়েকটি পত্রিকা নিয়মিত পড়ি।” একই কথা বলেন তার সাথে পত্রিকা পড়তে আসা মোঃ শহিদুল ইসলাম নামের আর এক পাঠক।

বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার তামান্না আক্তার বলেন, “সময় পেলে মাঝে মাঝে এই গণগ্রন্থাগারে তিনি উপন্যাস পড়তে আসেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ইতিকা পাল। তিনি বাগেরহাট সরকারী পিসি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কলেজ থেকে যাওয়া আসার পথে তিনি এই গণগ্রন্থাগারে বসে বই পড়েন। তিনি এখানে এসে সাহিত্যের বই বেশি পড়েন বলে জানান।

পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্যান্য বই পড়ার প্রবনতা কমে যাওয়া, মোবাইলে অবাধ ইন্টারনেটের ব্যবহার পাঠক শুন্য হওয়ার কারন বলে মনে করছেন অনেকে।
এবিষয়ে বাগেরহাটের জেলা শিশু কর্মকর্তা মোঃ আসাদুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে ছোট বাচ্চা, স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষার্থীসহ প্রায় সব ধরনের শিক্ষিত মানুষের হাতে ইন্টারনেট সংযোগসহ ষ্মার্ট ফোন। এরাই মুলতঃ গ্রন্থাগারের পাঠক ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ এখন বেশি সময় দেয়। ফলে লাইব্রেরীতে গিয়ে তারা বই পড়তে চান না।

এবিষয়ে বাগেরহাটের প্রবীন শিক্ষাবীদ অধ্যাপক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, একজন শিক্ষিত মানুষের কাছে বইয়ের গুরুত্ত্ব অপরিশীম। বই চিন্তার খোরাক যোগায়। যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিন্তার খোরাক খুই কম। তাই বই পড়ার কোন বিকল্প নেই।
এসব বিষয়ে বাগেরহাট গণগ্রন্তাগারের লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, গণগ্রন্থাগারের তিন ক্যাটাগরিতে নিয়মিত গ্রাহক রয়েছেন ৪৯ জন। প্রতিদিন গড়ে ২৮২ জন পাঠক বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসেন। পাঠকদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি।
তিনি আরো বলেন, মানুষের মধ্যে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এই সরকারি গণগ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয়। রয়েছে বই পাঠ প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা।

 

বাংলাদেশ সময়: ১২০১, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডিএমআর/এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top