বশেমুরবিপ্রবি’তে র‍্যাগিং ভিডিও ভাইরাল, ৬ ছাত্র আজীবন বহিষ্কার

fbgbjgnbdnb.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | প্রকাশিত: ৬:১৫ পিএম, ০৪-০৩-১৯

 

গোপালগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং এর কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে সব মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে । তবে প্রাথমিক ভাবে কারও পরিচয় পাওয়া যায় নি ।

গোপালগঞ্জের শাহরিয়ার রুদ্র নামে এক তরুণ তাঁর প্রফাইলে র‍্যাগিং এর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তাঁর ফেসবুক প্রফাইলে শেয়ার করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পরে। তাঁর ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের উদ্দ্যেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হল-

ফেসবুক স্ট্যাটাসঃ

আমি আপনাদের সাথে যে ভিডিও গুলো শেয়ার করছি এটা বাংলাদেশের সনামধন্য “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়” এর ভিডিও।

আমরা যারা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি বা এগুলো সম্পর্কে যেনে থাকলে আমরা আরো একটা শব্দ হয়তো শুনেছি।
সেটা হলো “রেগিং”।

আমার মতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র বা প্রভাবশালিদের দ্বারা জুনিয়র বা বাইরের অন্য ছাত্রদের হেনস্থা করার নামই হয়তো “রেগিং”।
অতীতে আমরা সামনা সামনি, মুভিতে,অথবা নাটকে অনেক রকমের “রেগিং” দেখেছি।সিনিয়র দের দেখলে সালাম দাওয়া,অতিরিক্ত সম্মান দেখানো,অনেক সময় কাপড় ধুইয়ে দাওয়া আথবা অনেক সময় অদ্ভূত অদ্ভূত প্রশ্নের উত্তর দাওয়া।

কিন্তু আমি এই ভিডিওতে যা দেখলাম তা এখনো আমার বোধগম্য হচ্ছে না।”এটা কি ছিলো!”

এটাও কি “রেগিং” ছিলো।নাকি একটু বেশি বেশি। এটা কি “রেগিং এর নামে অন্যায়,অত্যাচার না? অথবা “রেগিং” নিজেই কি একটা অপরাধ না?

মূল ঘটনা কি আমি যানি না।কিন্তু আমি এতটুকু হয়তো বলতে পারি ছেলে দুজন কোন অপরাধ করে নি।তারা হয়তো বলেছিলো “কোনো মানুষকে “মাল” বলা খারাপ””। এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা পড়া-লেখা করতে এসেছে।

কিন্তু একজনের মুখের ভাষ্য ছিলো এরকম”এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপরা হয় না।”চো* চু* হয়।আর আমরা সবাই এইসবই করি।এবং একটা সময় তাদের দিয়ে অশ্লিল কবিতা ও অশ্লিল অঙ্গ ভঙ্গি করতে বাধ্য করে।এবং একটা সময় তাদের একজন অজ্ঞান হয়ে পরে।।।।

প্রথমত,যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতেছি সেটা, শত বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলার জনক,বাঙালির গর্ব “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের” নামে নাম করন করা ।এবং আমি গ্যারান্টি সহকারে বলতে পারি যে,”এই ভিডিওর সবগুলো ভালো ছাত্র।

এরা কি এদেশের ভবিষ্যত, এরাইকি এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?কিন্তু ভালো বলতে পারা খাতায় ভালো লিখতে পারা এই ছাত্রদের দিয়ে দেশের কি হবে?ছাত্র রাজনীতির নামে এরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কি করতেছে?

বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কি এই শিক্ষা দিচ্ছে ছাত্রদের?এটাকে আমি নষ্ট রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই বলবো না।এতে কি বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে না?

লজ্জা লজ্জা লজ্জা!!!একজন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এবং একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে এটা আমার জন্য লজ্জা!!

“রেগিং” এর বিরুদ্ধে কোন আইন আছে কিনা আমি জানিনা তবে আমি অবিলম্বে এই ছাত্রদের বহিষ্কার দাবি করছি

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিং করার অপরাধে ৬ ছাত্রকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বোর্ড জরুরি সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র শিপন আহম্মেদ, শাহীন মিয়া, হৃদয় কুমার ধর, তূর্য হাওলাদার, নাদিম ইসলাম ও আশিকুজ্জামান খান লিমন।

জানা যায়, শনিবার (০২ জানুয়ারি) রাতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. রাজেশ হোসাইন শিথিল ও মাহামুদুল হাসান নামে দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে গোবরা গ্রামের একটি মেসে নিয়ে ওই ছয় শিক্ষার্থী র‌্যাগ দেন। র‌্যাগিংয়ের ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হলে তা ভাইরাল হয়। যা এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোপালগঞ্জে টক অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের হল রুমে প্রক্টর ও সহযোগী আধ্যপক আশিকুজ্জামান ভূইয়ার নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রক্টোরিয়াল বোর্ড জরুরি সভায় বসে। সভা শেষে অভিযুক্ত ৬ শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, ছয় শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাগিংয়ের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মো. রাজেশ হোসাইন শিথিল।

আগামীতে যাতে এ ধরনের র‌্যাগিংয়ের শিকার কোনো শিক্ষার্থী না হয় তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দাবি জানান।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৫, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডেস্ক/এএস

 

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top