অলংকারকাঠী ফুলের চাদরে ঢাকা

cbjhbvjbn.jpg

অলংকারকাঠী ফুলের চাদরে ঢাকা

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | প্রকাশিত: ১১:৪৫ পিএম, ০৩-০৩-১৯

 

পিরোজপুরের পল্লী অলংকারকাঠী গ্রামটি ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে। চোখ ধাঁধিয়ে দেয় রং-বেরংয়ের ফুল। আর এটাই এখন শুধু অলঙ্কারকাঠীর অলঙ্কার নয়, সারা দেশের অলঙ্কার। দেখে মনে হবে যেন ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে এই গ্রামটি।

সারি সারি হলুদ, লাল, কমলা ও  সাদা রং-বেরংয়ের ফুলে ফুলে ভরে গেছে স্বরূপকাঠী নার্সারি। যার আনন্দ অন্য কিছুর সঙ্গে মেলা ভার। এ ফুল দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তার মন ভরানো সুবাস বইছে।

পিরোজপুর থেকে স্বরূপকাঠি সড়ক ধরে বরিশালের দিকে যাওয়ার পথে অলংকারকাঠি বেইলি ব্রিজ পার হওয়ার পর থেকে সড়কের দু’দিকে যতদুর চোখ যায় সর্বত্রই দেখা যায় নানা রং-বেরংয়ের ফুলের সমাহার। অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে পূর্ব থেকে উপজেলার আকলম, অলংকারকাঠি, সুলতানপুর, সংগীতকাঠি, আরামকাঠিসহ ১০ থেকে ১২ টি গ্রামে ফুলের চাষ হচ্ছে।

সরেজমিনে নার্সারিগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, অলংকারকাঠী ব্রিজ থেকে উত্তর শর্ষিনা পর্যন্ত সড়কের দু’ধারে ৪০০ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা শতাধিক নার্সারিতে চারা উৎপাদনের ধুম পড়েছে। একই সঙ্গে জমে ওঠেছে ফুলের চারা কেনা বেচা। তিনটি গ্রাম নিয়ে ওই পল্লী গড়ে উঠলেও এরই মধ্যে অলংকারকাঠী নামেই পরিচিতি লাভ করেছে অনেক বেশি । তিন হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করে দিয়েছে নার্সারি গ্রাম অলংকারকাঠী।

ওই পল্লীতে সকাল সন্ধ্যা লেগে থাকে ফুল প্রেমী দর্শনার্থীদের ভিড়। যা একবার দেখলে বার বার ছুটে যেতে মন চায় এমন মন্তব্য করলেন নার্চারিতে ঘুরতে আসা সরকারি পিসি কলেজের দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শেখ রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক।

২০০২ সালে অলংকারকাঠী বেইলি ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে কৃষ্ণকাঠীর একখণ্ড জমি নিয়ে পানাউল্লাপুরের মো. শাহাদাৎ হোসেন প্রতিষ্ঠা করেন বৈশাখী নার্সারি। এর কয়েক বছর পর জাহীদুল ইসলাম পলাশ প্রতিষ্ঠা করেন ছারছীনা নার্সারি। একই সময় গড়ে ওঠে তৌহিদের আশা নার্সারি। এক এক করতে করতে বর্তমানে ওই সড়কের দু’কিলোমিটারের মধ্যে সড়কের দুই ধারে কহিনুর নার্সারি, আশা নার্সারি, নিরব নার্সারি, রুবেল নার্সারি, নেছারাবাদ নার্সারি, আদর্শ নার্সারি, ফারিয়া নার্সারি, নেছারিয়া নার্সারিসহ নানা নামের নার্সারি।

ওইসব নার্সারির মধ্যে রয়েছে স্বরূপকাঠির নার্সারি জগতের পুরোধা আব্দুল হাকিম ও হাচেন আলীর ছেলেদের একাধিক নার্সারি। এক এক করে ওই এলাকায় গড়ে ওঠেছে শতাধিক নার্সারি। এর মধ্যে একই নামে আট বিঘা জমিতে পলাশের দুইটি নার্সারি রয়েছে। ওইসব নার্সারি থেকে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার ফুলের চারা ও বিভিন্ন গাছ-গাছালির চারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকার শতশত মানুষ তার নিজের বা সরকারি ঠিকাদারী কাজে সরবরাহের জন্য চারা কলম কিনে নেন। শীত মৌসুম চলে শুধুই ফুলের চারা কলম।

ছারছীনা নার্সারি মালিক পলাশ ও আশা নার্সারির তৌহিদ বলেন, বর্তমান বছরে এখানের নার্সারি গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের গোলাপ ছাড়াও ডালিয়া, কেনিয়া, চন্দ্র মল্লিকা, ইনকা গান্ধা, গাদা, জিনিয়া, ফ্লকা, সালভিয়া, কেমিষ্ট, স্যালোনিয়া, ডেইজি, গ্যাজোনিয়া, স্নবল, বারবিন, কেনিডোলাসহ বহু প্রজাতির ফুলের চারা পাওয়া যায়।

এক একটি চারার দাম ৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। নাইট কুইনসহ আরো উন্নত জাতের ফুলের চারা পাওয়া যায় ওইসব নার্সারিতে। এছাড়্ওা ওই সড়কের জগৎপট্টি এলাকায় রয়েছে আরো ৫ টি নার্সারি।

নার্সারি মালিক শাহাদাৎ হোসেন ও পলাশ বলেন, ঢাকার বীজ বিক্রির দোকান ও বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্টদের কাছ থেকে বীজ কিনে আশ্বিন মাসে বীজতলা করে বীজ বপন করতে হয়। ১৫/২০ দিন পর চারা গজালে পরিথিন প্যাকেটে স্থাপন করে পানি ও ঔষধ দিতে হয়। ওইসব গাছে অগ্রহায়ণ মাসে ফুল আসতে শুরু করে। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুলের ভরা মৌসুম। ভূমি চাষ থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত মালিক তার নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে শ্রমিক, ঔষধ পানির ব্যবস্থা করেন। এজন্য প্রতিটি নার্সারিতে ১০ থেকে ১৫ জন করে শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করে।

পুরুষের পাশাপাশি মহিলা শ্রমিকরাও কাজ করে। এজন্য মহিলাদের ৩০০ টাকা ও পুরুষ শ্রমিকদের ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হয়। সবগুলো নার্সারিতে মাসিক বেতনে বাৎসরিক কর্মচারী রয়েছে। নার্সারি মালিকরা বলেন, ফুলের চারা কলমে নার্সারিতে সব খরচ বাদ দিয়ে তিন থেকে দশ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

এত ব্যাপক ফুলের সমাহার দেখে প্রতিটি নার্সারিতে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড় হয়। যা সামাল দিতে মালিকদের হিমসিম খেতে হয়। নার্সারি মালিকরা অনেকে লিখে রেখেছেন এই এলাকায় প্রবেশ, ছবি তোলা বা ফুল ছেড়া নিষেধ। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিদিন শত শত ফুল নিয়ে যায় ও নষ্ট করে ফেলে দর্শনার্থীরা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, এখানকার নার্সারিগুলো দেখে তিনি বেশ মুগ্ধ হয়েছেন। এলাকায় নার্সারি তৈরি করেছেন আর এ জন্য তিনি ইতিমধ্যে স্বরূপকাঠীর বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ৩০ হাজার চারা কিনেছেন।

নার্সারিতে কাজ করা নারী শ্রমিক কহিনুর বেগম ও মারুফা বেগম বলেন, নার্সারিগুলোতে শতাধিক নারী কাজ করেন। স্বামীর রোজগারের সঙ্গে তাদের আয় মিলিয়ে বেশ ভালই কাটছে তাদের জীবন। মালিকরা শ্রমিকদের প্রতি ভাল নজর দেন। আমাদের সুখ দুখ দেখেন।

অলংকারকাঠি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক, ইসমাইল হোসেন ও আবু তাহের বলেন, সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ওই পল্লীটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে। আর এ চাষের প্রসারতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলার নার্সারি শিল্প এরই মধ্যে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। এ শিল্পকে আরও বিকশিত করার জন্য কৃষি অধিদফতরের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নার্চারি মালিকরা যাতে স্বল্প সুদে লোন পায় তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে।

 

বাংলাদেশ সময়: ২৩৪৫, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডেস্ক/এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top