ব্যবহৃত রকেটকে পুনরায় কিভাবে ব্যবহার করা হয়?

bvdfgkjnknhkl.jpg

ব্যবহৃত রকেটকে পুনরায় কিভাবে ব্যবহার করা হয়?

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | প্রকাশিত: ১১:২৬ পিএম, ০৩-০৩-১৯

 

কোন প্রকার অব্জেটকে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে পাঠানোর জন্য ঐ অব্জেটকে পৃথিবীর গ্র্যাভিটিশনাল ফোর্সের বিপরীতে একটি নিশ্চিত গতি প্রদান করতে হয়। কোন অব্জেটকে এই গতি রকেটের মাধ্যমে দেয়া হয়। রকেট এমন একটা যন্ত্র যেটা জ্বালানি পুড়িয়ে ম্যাক্সিমাম গতি তৈরি করে এবং যেকোনো অব্জেটকে একটি নিশ্চিত গতি প্রদান করে। একটি রকেট আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করা থাকে। যেটা নিশ্চিত টাইম এবং নিশ্চিত উচ্চতার পর ধীরে ধীরে আলাদা হতে থাকে। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে রকেট থেকে আলাদা হাওয়া এই ভাগগুলো কোথায় যায়? এগুলো কী পরে পুনরায় ব্যবহার করা হয় এবং যদি পুনরায় ব্যবহার করা হয় তাহলে এমন রকেট এবং একটি সাধারণ রকেটের মাধ্যমে পার্থক্য কী? একটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেট কিভাবে কাজ করে, জানবো ডেইলি বাংলাদেশের আজকের এই আলোচনায়।

সাধারণত বেশি দূরত্বের মিশনের রকেটের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই বুস্ট রকেট লঞ্চিং। যেটি দুই মিনিটের মধ্যে রকেটকে ম্যাক্সিমাম গতি প্রদান করে এবং পৃথিবী থেকে তাকে একটি নিদিষ্ট স্থান পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। একটি নিদিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত যাওয়ার পর যখন বুস্ট রকেটের জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তখন ওটাকে প্রধান রকেট থেকে আলাদা করার জন্য কম্পিউটারকে সিগনাল দেয়া হয় এবং তাদের মেইন রকেট থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। এই বুস্ট রকেট প্যারাসুটের সাহায্যে পৃথিবীতে ফিরে আসে। যেটা নাসা বা তার সঙ্গে সংযুক্ত স্পেস এজেন্টশিপ টিম রিকভার করে নেয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রধান রকেটের ফাস্ট, সেকেন্ড এবং থার্ড ভাগ আলাদা হতে শুরু করে। কোন রকেটের কতগুলো স্টেজ হবে এ বিষয়টি নির্ভর করে তার সঙ্গে পাঠানো ফ্রি লোডকে কতদূর দূরত্ব পর্যন্ত রকেট সাহায্যের প্রয়োজন পরবে। যেমন স্যাটারন-৫ মডেলের রকেটের তিনটি ভাগ আছে। ঠিক ঐ রকম মাইনাটোর-৫ রকেটের পাঁচটি ভাগ আছে।

সাধারণত মানাটোর-৫ রকেট লম্বা দূরত্বে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি মাল্টি স্টেজ রকেটের ঐ স্টেজ যেটা পৃথিবীর মাধ্যকর্ষন শক্তি সীমার মধ্যে আলাদা হয় সেটি পৃথিবীতে ফেরত চলে আসে। কিন্তু যে ভাগ অরবিটাল এরিয়াতে আলাদা হয় ওটা পৃথিবীতে ফেরত আসতে পারে না। তাছাড়া যে পাঠ পৃথিবীতে ফেরত আসে সেগুলো পুরোপুরি নিরাপদভাবে পৃথিবীতে ফেরত আসতে পারে না। সেটাতেও কিছু না কিছু লোকসান অবশ্যই হয়ে যায়। এই ভাগগুলোর মধ্যে বুস্ট রকেট আবার ব্যবহার করা হয়। বুস্ট রকেটের রিইউজ করার জন্য এদেরকে একটি লম্বা প্রসেসের মাধ্যমে যেতে হয়। এই প্রসেসে তাদেরকে পুরোপুরিভাবে নতুন করে তৈরি করা যায় এবং তাদের ডেমেজ পার্ট ও সিকুরিটি ফিচারকে ঠিক করে আবার ব্যবহার করার জন্য রেডি করা যায়। কিন্তু এই প্রসেসের টাইম ও টাকা দুটোই অনেক বেশি লাগে এবং কখনত এই রিকভার করা পার্ট এরকম অবস্থায় থাকে না যেটা রিইউজ করা যাবে। যার ফলে স্পেস করা ফ্লাইট এর কস্ট অনেক বেশি হয়ে যায়।

এখান থেকেই বিজ্ঞানী এলন মাস্কের মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। তিনি বলেন, আমি একটা এই রকম রকেট বানাই যেটা যেকোনো অব্জেটকে স্পেসে ছাড়ার পর আবার পৃথিবীতে নিরাপদভাবে ল্যান্ড করতে পারি। এমনকি তাকে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে এবং এলন মাস্ক তার এই বুদ্ধিতে কাজ শুরু করে দেয়। অনেক অসহন পরীক্ষার পর ফাইনালি এলন মাস্ক এবং তার টিম পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেট বানাতে সক্ষম হয়ে যায়। এলন মাস্ক এবং তার টিমের স্পেস এক্স দ্বারা বানানো পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেটের সমস্ত ভাগকে আনমানিক একশো বারেরও বেশি ব্যবহার করা যাবে। তার মধ্যে কিছু অংশ যেমন সিন্সেটিভ জিনিস এবং হিট সিল্ডকে দশ বারের বেশি ব্যবহার করা যাবে। ঠিক একইভাবে স্পেস এক্সে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেট স্পেস ফ্লাইটের খরচকেও কমিয়ে অর্ধেক করে দিয়েছে। তো চলুন এখন জানা যাক একটি রিউজাবেল রকেট কিভাবে কাজ করে।

স্পেস এক্সের পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেট হলো ফেল্কন নাইন এবং ফেল্কন হেবিতে পাওয়ারফুল ডিসেন্ড ল্যাডিং স্টেটমেন্ট ব্যবহার করা হয়। যখন রকেটকে লঞ্চ করা হয় তখন বুস্ট রকেটের সাহায্যে ম্যাক্সিমাম গতি পেয়ে যায় এবং মুহূর্তেই এর গতি অনেক বেশি হয়ে যায়। আনুমানিক দুই থেকে আড়াই মিনিট পর বুস্ট রকেট মেইন রকেট থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং যখনই বুস্ট রকেট আলাদা হয়ে যায় বুস্ট ব্যাগ বার্ন এর সাহায্যে এদের মুখ নিচের দিকে করে দেয়া হয় এবং রি এন্টি বার স্টার্ট হয়ে যায়। এরপর এরা আবার পৃথিবীতে ফেরত আসতে থাকে। যখন এই বুস্ট রকেট ল্যান্ডিং প্লেটের কয়েক কিলোমিটার উপরে থাকে তখন এতে থাকা বুস্ট ব্যাগ বার্ন আবার স্টার্ট হয়ে থাকে এবং এদের মুখ আবার উপর দিকে হয়ে যায় এবং এতে লাগানো থাকা ডিসেন্ট ল্যান্ডিং ইঞ্জিন স্টার্ট হয়ে যায়। এই বুস্টারে চারটি ফুল্ডিং লেগশ লাগানো থাকে। যখন এই রকেট ল্যান্ডিং প্লাটে ল্যান্ডিং করতে থাকে তখন এই স্ট্যান্ড খুলে যায় এবং ল্যান্ডিং ইঞ্জিনের সাহায্যে বুস্ট রকেট সফলতা পূর্বক ল্যান্ড করা যায়। তারপর এখান থেকে স্পেস এক্স এর টিম সেগুলোকে স্পেস সেন্টারে নিয়ে যায় এবং এগুলোর মধ্যে লিকুইড ফুয়েল লোড করে আবার এগুলো পুনরায় ব্যবহার করা হয়।

বুস্ট রকেট থেকে আলাদা হওয়ার পর মেইন রকেট আলাদা আলাদা স্টেজ এ আলাদা করা হয়। স্পেস এক্স এর পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেটে ফেল্কন নাইন এবং ফেল্কন হিবিতে দুটি স্টেজ ইউজ করা হয়। মেইন রকেট থেকে বুস্টার  আলাদা হওয়ার পর রকেটের ফাস্ট স্টেজ এবং ইঞ্জিনের ফিউল কে বন্ধ করে টস্ট চালু করে দেয়। একটা নিদিষ্ট এল্টিটিউটে পৌঁছানোর পর রকেটের ফাস্ট স্টেজ এর সিপারেশন হয়ে যায় এবং সেকেন্ড স্টেজ এর বারনিং ইঞ্জিন থ্রাস শুরু করে দেয়। তারপর রকেটের ফাস্ট স্টেপ স্পেস এক্স দ্বারা বানানো ল্যান্ডিং প্লেটের ঠিকঠাক ঐরকমভাবে ল্যান্ড করে যে রকমভাবে বুস্ট রকেট ল্যান্ড করে এবং তারপর রিইউজেবল রকেট ফাস্ট স্টেজকেও পুনরায় ব্যবহার করা হয়।

একটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেটের বেশির ভাগ পাঠ পুনরায় ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এসব রকেটের সম্পর্কে মানুষের একটি ভুল ধারণা আছে যেটা হল স্পেস এক্স কোম্পানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন রকেট ফেল্কন হিবির  এর সমস্ত পাঠ ইউস করা হয় অর্থাৎ এই সমস্ত পাঠকে আবার রিকভার করা হয় এবং পুনরায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আসলে ফেল্কন হিবির সেকেন্ড পার্ট পুনরায় ব্যবহার করা হয় না। ফাস্ট স্টেজে আলাদা হওয়ার পর সেকেন্ড স্টেজের কাজ শুরু হয় এবং সেই স্যাটেলাইটকে তার নির্ধারিত গন্তব্য স্থানে নিয়ে যায়। তারপর সেকেন্ড স্টেজে সেপারেশন অরবাইটাল এরিয়াতে হয় এবং এজন্য এই ভাগকে পুনরায় ব্যবহার করতে পারা যায় না।

ফেল্কন হিবি ফাস্ট ফ্লাইটে স্পেস এক্স সেকেন্ড পার্টকে রিকভার করার প্লেন বানিয়েছিল। কিন্তু এই প্লেন একজিকিউট করা হয়নি। কারণ রকেটের ফাস্ট স্টেজে নয়টি মারলিন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেকেন্ড স্টেজে মাত্র একটি মারলিন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। সেকেন্ড স্টেজকে রিকভার করার জন্য ল্যান্ডিং ইঞ্জিনে হিট স্টিল এবং কিছু বৈজ্ঞানিক উপকরণ অনুসরণ করতে হবে। যেটাতে একটু মুশকিল ব্যপার হবে। কারণ এ সমস্ত জিনিস ইন্সটল করা পরে সেকেন্ড স্টেজের দ্রব্য মান অনেক বেড়ে যাবে এবং এরকম সিচুয়েসনে রকেটের এক্সট্রা ফুয়েলের ব্যাবহার করতে হবে। যেটা অনেক ব্যয়বহুল হবে। এখন পর্যন্ত কোন স্পেস এজেন্সির কাছে এরকম কোন প্রযুক্তি নেই যারা অরবিটের আলাদা হওয়া পাঠকে পুনরায় ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এলন মাস্ক তিনি একটি ধারণা করেছেন এবং বলেছেন আগত কয়েক বছরের মধ্যে ফেল্কন রকেটের সেকেন্ড পার্টকেও ফিরিয়ে আনিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে।

যদি এলন মাস্ক তিনি তার এই প্রজেক্টে সফল হন তাহলে স্পেস প্রজেক্টের খরচ অনেক কমে যাবে। বর্তমান ফেল্কন রকেটের পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন ভাগকে রিইউজ করার জন্য কয়েক দিন সময় লাগবে। কিন্তু ২০১৮ সালের মে মাসে এলন মাস্ক বলেছেন তিনি চলতি বছরের মধ্যে পর্যন্ত এমন একটা প্রযুক্তি তৈরি করবেন যেটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন  রকেটের ভাগকে রিকভার করার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সেটাকে আবার পুনরায় স্পেসে পাঠানোর জন্য তৈরি করা যাবে।

 

বাংলাদেশ সময়: ২১২৬, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডেস্ক/এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top