তালায় ৪৮ বছর আগের নির্মিত ব্রীজটি সংষ্কারে নজর পড়েনি কারো

rehrtjktyl.jpg

তালায় ৪৮ বছর আগের নির্মিত ব্রীজটি সংষ্কারে নজর পড়েনি কারো

তালা প্রতিনিধি, Prabartan | প্রকাশিত: ১১:২১, ০১-০২-১৯

সাতক্ষিরা: তালা উপজেলার শাকদহা খালের উপর পাকিস্তান আমলে নির্মিত ব্রীজটি সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে। বীজটির এক প্রান্তে সংযোগ রাস্তা না থাকায় কৃষিজোন খ্যাত শাকদহ এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে পারছে না অন্তত ৩০ গ্রামের কৃষকরা। সেতুর একটি মাত্র সংযোগ সড়কের অভাবে কৃষিতে রীতিমত অনীহা চলে এসেছে সেখানকার কৃষকদের। ব্রীজটি সংস্কারপূর্বক সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে ৩০ গ্রাম হইতে কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন কৃষক ভাইয়েরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরম অযতœ-অবহেলা ও দীর্ঘ দিন সংষ্কারের অভাবে ব্রীজটির নিরাপত্তা রেলিং নিশ্চিহ্ন হয়েছে অনেক আগেই। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের শাকদহা ব্রীজের উত্তরদিকে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদ থেকে বেতনা নদীতে মিশ্রিত দীর্ঘ খালের উপর এ ব্রীজটির অবস্থান। জনপদের সাধারণ মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘ দিন পূর্বে ব্রীজটি নির্মিত হয়েছে। তবে ঠিক কবে কোন সরকারের শাষনামলে ব্রীজটি নির্মিত হয় সে বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগ কিংবা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কোন সঠিক তথ্য দিতে না পারলেও স্থানীয়দের ধারণা পাকিস্তান শাষনামল কিংবা তারও পূর্বে নির্মিত হতে পারে ব্রীজটি। ব্রীজের কারুকাজ শৈলী বা নিদর্শন দেখে এটি দেশ ভাগেরও অনেক পূর্বে নির্মিত বলে অনেকের ধারণা।

স্থানীয়রা বলেন, পাকিস্তান আমলে নির্মিত একাধিক ব্রীজের সাথে এ ব্রীজটির নকশার অনেক মিল রয়েছে। ব্রীজটি কংক্রিটের ৩টি আরসিসি ওয়াল এর উপর ৬টি স্প্রিং দিয়ে বসানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না থাকা বা সংষ্কার না করা অথবা অবহেলার নমুনা হিসেবে ব্রীজের পশ্চিম দিকে মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা, পাঁচপাড়া, ভৈরবনগর, মঠবাড়িয়া, কালিবাড়ি সহ ১০টি গ্রামের মানুষ ব্রীজের এক প্রান্তে আসতে পারলেও পূর্ব দিকের প্রান্তে সংযোগ রাস্তা না থাকায় ২০ গ্রামের মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে শাকদহা খালের অববাহিকায় বর্তমান সমন্বিত মৎস্যঘেরে সবজি, কুল, ধান, পাট ইত্যাদি জাতীয় কৃষিপন্য বাজারজাত করতে ব্রীজটি ব্যবহার করতে না পারায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে পাটকেলঘাটা বাজার, মৌলভীবাজার যেতে হচ্ছে। এছাড়া ওই এলাকায় উৎপাদিত মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন কাঁচা মাল যথা সময়ে বাজারজাত করতেও এলাকাবাসীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। অল্প সময়ে দ্রুত পণ্যগগুলো বাজারজাত করতে এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত ব্রীজের পূর্ব প্রান্তের অধি গ্রহণকৃত রাস্তার জমি দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করে ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ব্রীজের পূর্ব প্রান্ত হতে শাকদহা বিলের মধ্যভাগ দিয়ে বড়বিলার ঈদগাহ হয়ে কলারোয়া সড়কে মিলিত হয়েছে। ব্রীজের কাছাকাছি রাস্তার জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে মৎস্যঘেরে রূপান্তির করেছে। বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষিপণ্যের
মানোন্নয়ন ও তা সুষ্ঠু ভাবে বাজারজাত করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করলেও এ ব্রীজটির সংষ্কারে দীর্ঘ দিনেও নজর পড়েনি কারো।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ জানিয়েছেন, এলাকার কৃষকদের স্বার্থে ব্রীজটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশ সময়: ১১২১, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এএস

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top