গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে ঐকমত্য গড়ে তুলুন

30-01-19-President_Parliame20190130192536.jpg

জাতীয় সংসদে ভাষণ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ

 ঢাকা অফিস, Prabartan | আপডেট: ৮:৪৫, ৩০-০১-১৯

 

সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে দল-মত পথের পার্থক্য ভুলে সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সবার ঐক্যমত গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এ আহ্বান জানান।ভাষণে রাষ্ট্রপতি বিগত দশ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সব সেক্টরে গৃহীত পদক্ষেপ ও প্রকল্প বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সরকারের অর্জন ও অগ্রযাত্রাসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

রেওয়াজ অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। পরে এই ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে সংসদে পাস হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণার রেওয়াজ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ১৫৮ পৃষ্ঠার ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংসদে তুলে ধরেন। সংসদে স্পিকারের ডান পাশের চেয়ারে বসে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ দেন।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্রবাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে। আশাকরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ আরও সুসংহত ও গতিশীল হবে। জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। জাতীয় ঐক্যমত ছাড়া শান্তি ও সমৃদ্ধি স্থায়ীরূপ পেতে পারে না।

‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও অব্যাহত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মতো মৌলিক প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সবার ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ কর্মচঞ্চল সুখী সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সবার কাম্য। ইতিহাসের সাহসী সন্তানেরা রক্ত, প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন। আমাদের দায়িত্ব এই দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করা।

‘আসুন, ধর্ম-বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে ও দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত করার মধ্য দিয়ে আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।’

চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ও সার্চ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৫, ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

ডেস্ক/এএস

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top