খুলনায় আমের মুকুলে বসন্তের আগমনী বার্তা

image-174233-1611923244.jpg

আফসানা আকতার তিসা: শীতের ভরা মৌসুমে বসন্তের শুরুতে গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ। খুলনাত বিভিন্ন জায়গায় বিপুল পরিমাণে আমের মুকুলের সমারোহ ঘটছে। মুকুলের ভাড়ে গাছের ডাল-পালা নুয়ে পড়ছে। ছোট-বড় গাছ গুলোতে বেশী মুকুল আসতে শুরু করছে। আমের মুকুল যে পরিমাণে আসছে অনেকে মনে করছে এবার আমের ফলন বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, খুলনার শহর-গ্রামগুলোতে ঘাছে গাছে আমের আগাম মুকুলে ছেয়ে গেছে। হলুদ বর্ণের মুকুল সূর্যের সোনালী আলোয় যেনো অপরূপ রঙ ছড়াচ্ছে। মুকুলের সমারোহ দেখে বাড়ির লোকজনের আনন্দ বইছে। কেউ কেউ গাছের যত্নে মনোযোগী হয়ে উঠছেন। আমের মুকুল আসছে তাই এখন মৌমাছির গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মতো কাছে টানছে।

কয়েকজন মালিকরা জানান, বর্তমানে আবওহায় অনুকুলে রয়েছে। সপ্তাহে খানেক আগে থেকে বাগানের আম গাছে মুকুল আসা শুরু করেছে। মুকুল আসার পর থেকে গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করছি এবং কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে বালাইনাশক স্প্রে করছি।

খালিশপুর এলাকার আমচাষি হিরন্ময় কুন্ডু বলেন, বাগানের অধিকাংশ গাছ-ই এরইমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া গ্রামের আম চাষি আব্দুর রহমান বলেন, আম বাগানে এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আম গাছে রোগ হলে টিএসপি ও এমপি সার দিতে হবে দুই-তিন বছর বয়সের গাছে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম, চার-পাঁচ বছর বয়সের গাছে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম, ছয়-সাত বছর বয়সের গাছে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম, আট-নয় বছর বয়সের গাছে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম এবং ১০ বছরের ঊর্ধ্বে ৮৫০ থেকে এক হাজার ২০০ গ্রাম প্রতি গাছে এ গুলো ব্যবহার করতে হবে। ফুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে পুষ্পমঞ্জরিতে পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানত্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। তাই রিপকর্ড এবং কেবিএস জয় ব্যবহার করতে যেতে পারে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘খুলনাসহ ডুমুরিয়ার আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। তাই এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময় মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আমের আশা অনুরূপ ফলন পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির আম বাগানে বিভিন্ন প্রকারের আম গাছ রয়েছে।’ তবে দিন দিন লাভের কারণে বাগান ও আমগাছ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেন এ কর্মকর্তা।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, ‘এ বছর আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ আম গাছে মুকুল এসেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলিতে মোটরদানার মতো আমের গুটি চলে আসবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে বাগান মালিক ও চাষিরা এবার লাভবান হবেন।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু শীত এবার দীর্ঘায়ু হয়েছে, তাছাড়া গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি নেই। তাই ফলনও ভালো হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই আম বাগানের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে গড়ে ওঠা নতুন আম বাগানগুলোর প্রায়ই বনেদি জাতের। বিশেষ করে নিয়মিত জাত আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসাপাত ও আশ্বিনা জাতেরই গাছ বেশি লাগানো হচ্ছে।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top