খুলনার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৭ চিকিৎসকের পদ শূন্য : কর্মস্থলে থাকেন না অনেকেই

076.gif

ডুমুরিয়া হাসপাতাল

হারুন অর রশিদ, Prabartan | অপডেট: ৫:৫০ পিএম, ২৮-০১-১৯

 

খুলনা: খুলনার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৭ চিকিৎসকসহ অন্যন্য ৬২৭টি পদ শূন্য রয়েছে। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন। চিকিৎসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে সহকারী সার্জন, এমও, ইএমও পদে। এ পদে জেলায় সর্বমোট মঞ্জুরিকৃত পদসংখ্যা ৫৪টির স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ৫জন। ৪৯টি পদই শূণ্য রয়েছে। এতে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

অন্যদিকে চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি কর্মরত চিকিৎসকের বেশির ভাগ কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবা নিতে আসা রোগীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে বদলি হয়ে আসা অনেক চিকিৎসক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে কেবল বেতন নিতে আসেন। ফলে সরকারি সেবা বঞ্চিত রোগীদের দৌঁড়াতে হচ্ছে বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মানুষ।


জেলার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাতা কলমে কর্মরত ৮ চিকিৎসকের মধ্যে ৫ জনই কর্মস্থলে থাকেন না। এদের কেউ দীর্ঘ মেয়াদি ছুটি নিয়ে বিদেশে আছেন। আবার কেউ শহরের ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত রোগী দেখছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয় সূত্র জানায়, এসব চিকিৎসক মাসের প্রথম দিকে বেতন নিতে একবার মাত্র আসেন।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, কর্মরত ৮ জনের মধ্যে নিয়মিত ৩ জন উপস্থিত থাকেন। অন্যরা মাঝে মধ্যে আসেন। এসব চিকিৎসককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২১টি পদ শূণ্য রয়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন>>: খুলনা-সাতক্ষিরা মহাসড়ক নির্মাণ কাজে ধীর গতি : জনমনে ক্ষোভ

আরো পড়ুন>>: নগর ভবনের সামনে রাত কাটাচ্ছেন ইজি বাইক চালকরা

খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ি, সিভিল সার্জনের দপ্তর, খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ ৭১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালসহ সিভিল সার্জনের আওতাধীন নগরীর অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৮৩টি এবং নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬২৭টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক সংকটের কথা তুলে ধরে সূত্রটি জানায়, জেলায় জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) নয়টি করে পদ থাকলেও একটি পদও পূরণ নেই। জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) এবং অর্থোপেডিক্স বিভাগেও নয়টি করে পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন করে। জেলায় প্রথম শ্রেণির ৩২৩টি পদের মধ্যে ১১৭টি পূরণ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট স্বাস্থ্য সহকারী। জেলায় ৩৯০টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের মধ্যে ২৬১টি পূরণ থাকলেও শূণ্য রয়েছে ১২৯টি। তৃতীয় শ্রেণির সর্বমোট ১ হাজার ১০২টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৩১৬টি। সংকট রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে। জেলায় ৩১৪টি পদের মধ্যে পূরণ রয়েছে মাত্র ১৫৩টি। সূত্র জানায়, সাম্প্রতিককালে সরকার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সরাসরি নিয়োগ বন্ধ করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য খুলনাসহ সারাদেশেই কর্মচারী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

আরো পড়ুন>>: ঘরে বসেই নিয়ে নিন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জেলার প্রধান সমস্যাই চিকিৎসক সংকট। আবার অনেক চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যোগাদানের পর পরই অন্যত্র বদলির চেষ্টায় থাকেন। এসব চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে সাত হাজার ডাক্তার নিয়োগের যে প্রক্রিয়া রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্যও টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫০, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮

এইচআরআর/এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top