নগর ভবনের সামনে রাত কাটাচ্ছেন ইজি বাইক চালকরা

08-25.jpg

নগর ভবনের সামনে রাত কাটাচ্ছেন ইজি বাইক চালকরা

হারুন অর রশিদ, Prabartan | অপডেট: ৮:২৫, ২৭-০১-১৯

খুলনা: নগরীর ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশারাফুল আলম শনিবার নগর ভবনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি তার আবেদন ফরমটি হাতে পেয়েছেন পরের দিন অর্থাৎ রোববার দুপুরে।
আশরাফুল আলম বলেন, শনিবার দুপুরের পর লাইনের শেষে দাঁড়িয়েছিলাম। বিকাল ৪টায় ফরম দেওয়া বন্ধ হয়ে গেলেও আমরা বাসায় ফিরে যায়নি। এখানেই ফুটপাতে রাত কাটিয়েছি। সিরিয়াল পাওয়ার আশায় রাতের ও সকালের খাবারও এখানে বসেই খেয়েছি।
আশরাফুল আলমের মত খুলনা নগর ভবনের সামনে শত শত ইজিবাইক চালক এভাবে রাত কাটাচ্ছেন। ইজিবাইক রেজিষ্ট্রেশনের আবেদন ফরম সংগ্রহের জন্য রাতের শীতকে উপেক্ষা করে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে তাদের।

ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষে গত ২১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় একজন ইজিবাইক চালকের হাতে ফরম তুলে দিয়ে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে আবেদন ফরম নিতে চালকদের মাঝে প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ি নগরীতে ইজিবাইকের সংখ্যা ৩০ হাজারের মত। তবে আবেদন ফরম বিতরণ শুরুর দিন থেকে এ পর্যন্ত ফরম সংগ্রহকারিদের দীর্ঘ লাইন প্রমান করে নগরীতে এ যানটির সংখ্যা আরো বেশি। কেসিসি থেকে জানানো হয়েছে ইজিবাইক চালকদের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য ১০ হাজার আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে থেকে প্রাথমিকভাবে নগরীর স্থায়ি বাসিন্দা এমন ৫ হাজার চালককে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে।

আরো পড়ুন>>: শিক্ষা বিস্তারে বর্তমান সরকার অপরিসীম অবদান রাখছেঃ কেসিসি মেয়র খালেক

আরো পড়ুন>>: খুলনার বাদামতলা বিআরটিএ’তে দুদকের অভিযান

আরো পড়ুন>>: খুলনায় ৩২ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত

নগরীর ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধ আনিসুর রহমানও আগে সিরিয়াল পেতে সেখানেই রাত কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, মোটে ৫ হাজার লাইসেন্স দেবে বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে। অথচ এ শহরের ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইজিবাইক চলে। যে কারনে আবেদন ফরম পেতে এমন হুড়োহুড়ি লেগে গেছে।
সেখানে উপস্থিত প্রায় শতাধিক ইজিবাইক চালক জানান, আবেদন ফরম বিতরণ শুরুর দিন থেকে তাদের মত অনেকেই এখানে রাত কাটাচ্ছেন। তারা বলেন, ইজিবাইকেই সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরেছে। সেটি যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য এমন কষ্ট করা।

সূত্র অনুযায়ি, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে নগরের সড়ক গুলোতে ব্যাটারিচালিত এ যানটি চলাচল শুরু করে। যানটি দ্রুত নগরে ছড়িয়ে পড়ায় যানজট বেড়ে যায়। গাড়ি চালানোয় চালকদের ন্যুনতম দক্ষতা না থাকায় এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচলের কারণে পথচারী ও যাত্রীদের প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়। এ কারণে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও পথচারীরা নগরে ইজিবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ প্রেক্ষিতে কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ইজিবাইক লাইসেন্স ফরম নিতে গেলে চালক বা মালিককে নগরীর স্থায়ী বাসিন্দার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ইজিবাইকের মালিকানার কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট আরো কিছু কাগজপত্র লাগছে। এসব কাগজপত্র গেজেটেড অফিসারের মাধ্যমে সত্যায়িত করে ফরমের সঙ্গে সংযুক্ত সাপেক্ষে জমা দিতে হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ সময়: ২০২৫, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯

এইচএআর/এএস

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top