খুলনায় ৩২ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত

image-79487-1548581404.jpg

খুলনায় ৩২ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত

ডেস্ক রিপোর্ট, Prabartan | আপডেট: ৫:২৮ পিএম, ২৭-০১-১৯

 

খুলনা: খুলনার ১০ জেলায় এক বছরে ৩২ জনকে কুষ্ঠরোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছে ১৭ জন।

সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নেতিবাচক সামাজিক বিভাজন রোধ করা গেলে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জেলা সিভিল সার্জনের সহযোগিতায় কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প খুলনা শাখা এই নামে পিমে সিস্টারস পরিচালিত ১৯৮৬ সাল থেকে কুষ্ঠ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মহানগরীতে রোববার বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর টুটপাড়া সরকারি আরবান ডিসপেনসারি, বৃহস্পতিবার খুলনা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও খালিশপুর লাল হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা কেন্দ্রে কুষ্ঠ সন্দেহ রোগীদের পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর মো. আক্তার আলী জানান, এ প্রতিষ্ঠান কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে গত দুই বছর ধরে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগীকে বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৭২ জন কুষ্ঠ শনাক্তকারী ব্যক্তিকে বিনামূল্যে সেবা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী চিকিৎসা সেবায় রয়েছেন বাকিরা সুস্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে বিকলাঙ্গতা রোধ করা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসায় বিলম্ব হলে বিকলাঙ্গতা বাড়তে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা প্রয়োজন। ১৯৯৮ সালের পর থেকে খুলনা অঞ্চলে কুষ্ঠরোগী শনাক্তের হার কমেছে। আতঙ্কও কমেছে।

তার দেয়া তথ্য মতে, ২০১৮ সালে খুলনা বিভাগে ৩২ জন কুষ্ঠরোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ২১ ও মহিলা ১১ জন রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা সিটিতে রয়েছে ১২ জন। এছাড়া ডুমুরিয়ায় ৩ জন, দিঘলিয়ায় ১ জন ও কয়রায় ১ জন। এর বাইরে খুলনা বিভাগের মধ্যে যশোরে ৫ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, কুষ্টিয়ায় ৩ জন, বাগেরহাট ১ জন ও নড়াইলে ১ জন কুষ্ঠরোগী রয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চর্ম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে কুষ্ঠরোগীকে তাদের এ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে। এখান থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে সেবা দেয়া হয়। এর আগে ২০১৭ সালে ৩৩ জন কুষ্ঠরোগীকে শনাক্ত করা হয়।

আরো পড়ুন>>:এত কিছুর পরও কেন শৃঙ্খলা ফিরছে না সড়কে?

প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর মো. আক্তার আলী বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রজেক্ট অ্যান্ড মেডিকেল ডাইরেক্টর ডা. সিস্টার রোবার্তা পিনোনের তত্ত্বাবধানে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। মহানগরীর বড় বয়রা দাসপাড়ায় অবস্থিত তাদের নিজস্ব ভবনে কুষ্ঠরোগীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাসহ নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এখানে রোগীদের মোট বেড সংখ্যা ৩৩টির মধ্যে মহিলা বেড রয়েছে ১৭টি।

ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র টিবি ল্যাপ্রসি কন্ট্রোল অফিসার এসকে ফারুক বলেন, কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে প্রতি দুই সপ্তাহে একটা করে এ রোগের জীবাণু বংশ বিস্তার করে। শরীরের মধ্যে অনেক বছর ধরে বংশ বিস্তার করতে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৩-৪ বছর পর শরীরের চামড়ায় এ রোগের লক্ষণ বোঝা যায়। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিরা অধিকাংশই নিম্ন শ্রেণির মানুষ। এছাড়া রোগটি প্রথম থেকে শনাক্ত হলে সেই রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসক ডা. সজল আশফাক বলেন, কুষ্ঠ সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। কুষ্ঠ কোনো বংশগত রোগ নয়। কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত বাবা-মা সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পারে। চিকিৎসা অবস্থায় এ রোগ ছড়ায় না। তবে বাসনপত্র, বিছানা, ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা রাখতে হবে। কুষ্ঠ রোগে প্রাথমিকভাবে ত্বকের রং পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। পরে ত্বকের নিচে গুটলির মতো দেখা যায়। শুরুতে চিকিৎসা না হলে ঘা হতে পারে। হতে পারে অঙ্গ বিকৃতি। অথচ সময় মতো চিকিৎসা করালে কুষ্ঠ নিরাময় করা যায়। ছয় মাস থেকে দুই বছর ওষুধ সেবনের মাধ্যমে কুষ্ঠ নিরাময় করা যায়। তাই ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

এদিকে, রোববার খুলনায় নানা আয়োজনের মধ্যে বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা জিও-এনজিও নেটওয়ার্ক কমিটির উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৭২৮, ২৭ জানুয়ারি ২০১৯

ডেস্ক/এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top