হলদে ফুলে মাতোয়ারা

-ফুলে-মাতোয়ারা.jpg

হলদে ফুলে মাতোয়ারা

ডেস্ক রিপোর্ট, prabartan | আপডেট: ৭:২৭, ২৪-০১-১৯

 

নড়াইলের মাঠ জুড়ে এখন হলুদের হাতছানি। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলদে রং। যেন হলুদ বরণে সেজেছে ফসলের মাঠ। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। সরিষা ফুলের মিষ্টি সুবাস গ্রামীণ জনপদকে আরো মধুময় করে তুলেছে।

আর এই দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভুলছেন না প্রকৃতিপ্রেমীরা। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন সরিষার তেলের ব্যবহার করায় বাজারে তেলের চাহিদা বেড়েছে। দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরাও সরিষা চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি রবিশস্য মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ১শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। গত বছর থেকে এ বছর প্রায় ৫শ’ হেক্টর অধিক জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। স্থানীয় জাতের সরিষাসহ সেচের মাধ্যমে বারি-৯, ১১, ১৪, ১৫ এবং সম্পদ জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা বপন করেছে চাষিরা। ফলে উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে।

সদর উপজেলার চালিতাতলা গ্রামের কৃষক আবুল বাশার মোল্যা বলেন, সরিষার চাষ করে অল্প সময়েই ঘরে তোলা যায়। যার কারণে একই জমিতে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হয়। তাছাড়া সরিষা চাষে তুলনামূলকভাবে খরচ কম। এক সময়ে সরিষার চাষ কম হলেও চালিতাতলাসহ আশেপাশের মাঠে সরিষা চাষ বেড়েছে।

লোহাগড়া উপজেলার জালালসী গ্রামের কৃষক শাহিন মোল্যা বলেন, ইছামতি বিলের উঁচু জমিতে আগের তুলনায় সরিষার চাষ বেড়েছে। মানুষ আগের তুলনায় এখন সরিষার তেল রান্নাসহ নানা কাজে ব্যবহার করছে। তাই সরিষার বাজার দরও ভাল পাওয়া যাচ্ছে।

নড়াইল শহরের বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন তেলের রান্না খাওয়ার কারণে শারীরিকভাবে কিছুটা সমস্যা মনে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নেট থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জেনে এখন সরিষার তেল রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। প্রথম দিকে খেতে একটু খারাপ লেগেছিল। তবে এখন স্বাভাবিক হয়েছে।

চালিতাতলা বাজারের তেল ব্যবসায়ী প্রদীপ কুণ্ড বলেন, এক সময়ে সরিষা তেলের কোনো চাহিদা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সরিষা তেলের চাহিদা বেড়েছে। চেষ্টা করছি নির্ভেজাল সরিষার তেল বিক্রির জন্য। বাজারে প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এছাড়া সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ চিন্ময় রায় বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর আরো পাঁটশ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষার বাম্পার ফলন হতে চলেছে। কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষের জন্য প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর চাহিদা মেটানোর জন্য সরিষাসহ তেল জাতীয় রবিশস্যের চাষাবাদ বাড়ানোর জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করি আগামী দিনে তেল জাতীয় রবিশস্য চাষাবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের চাহিদার অনেকাংশই পূরণ হবে।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৭, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯

এএস/ডেস্ক

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top