খুলনা-সাতক্ষিরা মহাসড়ক নির্মাণ কাজে ধীর গতি : জনমনে ক্ষোভ

gfjht.jpg

খুলনা-সাতক্ষিরা মহাসড়ক নির্মাণ কাজে ধীর গতি : জনমনে ক্ষোভ

হারুন-অর-রশিদ, prabartan | আপডেট: ৬:৫৬, ২৩-০১-১৯

 

খুলনা: সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে এগোচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ শেষ করা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন এ পথে চলাচলকারি যাত্রী ও যান চালকরা। সেই সাথে কাজের গুনগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় মানুষ।

সওজ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর এ সড়ক প্রশস্তকরণ এবং এর পুরুত্বসহ ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। এ বছরের ৩০ মে কাজ শেষ হওয়ার কথা। খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে আঠারোমাইল পর্যন্ত প্রায় ৩১ কিলোমিটার সড়কের পুরুত্ব ও প্রশস্ত করণের কাজ চলমান রয়েছে। এর আগে সড়কের এ অংশে পুরুত্ব ছিল ৩৫০-৪০০ মিলিমিটার। এখন বিভিন্ন লেয়ারে পুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে ৯০০ মিলিমিটার থেকে ১ মিটার। সড়কে ভারবহন ক্ষমতা থাকবে। আগে সড়ক প্রশস্ত ছিল ২০ ফুট। দুই পাশে অতিরিক্ত ৭ ফুট করে এখন প্রশস্ত হবে ৩৪ ফুট।

খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাস জানিয়েছেন, খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে আঠারো মাইল পর্যন্ত মহাসড়কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ১৬৩ কোটি টাকা নির্মান ব্যায় বরাদ্দ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এ মহাসড়কটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের (খুলনা জোন) আওতায় খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা (আর-৭৬০) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এ ছাড়া আঠারোমাইল থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে কৈয়া বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কৈয়া বাজার থেকে ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ব্রীজ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের কোন অংশ খুড়ে রাখা হয়েছে। আবার কোন কোন অংশে খোয়া ও বালু ভরাট করে রোলার মেশিন দিয়ে সমান করার কাজ চলছে। সড়কের ওই অংশে দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। খর্ণিয়া ব্রীজ থেকে চুকনগর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কে খোয়া ও বালু ভরাট করে ফেলে রাখা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, কাজের ৭৫ ভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। তবে বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। এ মুহুর্তে মোট কাজের ৬০ শতাংশের মত সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি কাজ চলছে ধীর গতিতে।

চুকনগর বাজারের আরএন এন্টার প্রাইজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক জামশেদ আলী বলেন, সড়ক নির্মাণ কাজ যেভাবে এগোচ্ছে তাতে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। এর আগে দীর্ঘদিন এ সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী ছিল। সে অবস্থা থেকে উত্তরোনের জন্য এ পথে চলাচলকারি যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়িদের অব্যাহত দাবীর মুখে সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি দেখে বুঝতে পারছি এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির শেষ কবে হবে।

খুলনা ও সাতক্ষিরার ব্যবসায়িরা বলছেন, দ্রুত কাজটি শেষ হলে ভোমরা বন্দর থেকে ঢাকা ও মোংলা বন্দরে যাতায়াত দ্রুত ও সহজ হবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাড়বে, দুর্ঘটনার হার কমবে, শিল্পকারখানার সংখ্যা বৃদ্ধিসহ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তবে নির্মাণকাজের ধীরগতির পাশাপাশি সড়কের পুরানা অংশের পিচ ও খোয়া দিয়ে যেনতেনভাবে বর্ধিত অংশের গর্ত ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ি ও সাধারণ মানুষ সড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায় কাজের সঠিক মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাস এ প্রসংগে বলেন, কাজের মাননিয়ন্ত্রনের জন্য আমরা সার্বক্ষনিক নজরদারি করছি। আশা করছি নির্দিষ্ঠ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
এ মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ, তমা কনস্ট্রাকশন একটি গ্রুপে ও অন্য গ্রুপে তাহের ব্রাদার্স, মঈনুদ্দিন বাঁশি ও মোজাহার এন্টারপ্রাইজ কাজ করছে।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৬, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৯

এইচএআর/এএস

 

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top