খুলনায় ‘স্ট্রিট ফুডের’ দোকানে উপচেপড়া ভিড় : স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

WhatsApp-Image-2022-01-21-at-20.59.19.jpg

খুলনার নিউ মার্কেট এলাকায় বাইতুন নূর জামে মসজিদের পাশে প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত হচ্ছে জনসমাগম। স্বাস্থ্য বিধির বালাই নেই সেখানে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ছবি তুলেছেন নাজমুল হক পাপ্পু।

নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়েকদিন ধরে দেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় জনসমাগম বন্ধসহ বেশকিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

এর মধ্যে খুলনার ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়েও কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন।

তবে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খুলনার নিউ মার্কেট এলাকায় বাইতুন নূর জামে মসজিদের পাশে প্রতিনিয়তই হচ্ছে জনসমাগম।

হাজারো মানুষে সেখানে প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ‘স্ট্রিট ফুড’ (সড়কের পাশে খাবার দোকান) থেকে খাবার কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তিল ঠাই জায়গা ফাঁকা নেই। অস্থায়ী ভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৪০টি মত দোকান। বিক্রি হচ্ছে ডিম ভাজি, ফুসকা, চটপটি, কাবাব, নেহাড়ীসহ নানা রকমের মুখ রোচক খাবার। অগনিত ক্রেতার সেখানে এসে খাবার কিনে খাচ্ছেন। যার মধ্যে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী।

সেখানে ঘোটা ডিম বিক্রি করেন কালাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় এক হাজারের মত ডিম বিক্রি হয়। বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয় এখানে ডিম বিক্রি। চলে রাত ১১টা নাগাদ। নানা আইটেমে এখানে ডিম বিক্রি হয়। সিদ্ধ, নরমাল ভাজি এবং ঘোটা ডিম। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঘোটা ডিম।’

তিনি জানান, মাঝে মাঝে রাতে পুলিশ এসে বন্ধ করতে বলে। কিছু সময়ে পরে পুলিশ চলে গেলে আবারও তারা ভাজি ডিম বিক্রি শুরু করেন।

সেখানে ফাস্ট ফুড বিক্রি করেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, এখানে তাদের ব্যবসা ভালোই চলছে। অনেক দূর থেকে ক্রেতারা আসছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক বিক্রি হচ্ছে। আগামীকাল শনিবারও ভাল বিক্রি হবে। ‘

সারা দেশে করোনার সংক্রমণ রোধে  গত ১০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাতে  জানানো হয়েছে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করতে হলে করোনা টিকার সনদ থাকা লাগবে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি বা টিকা সনদের ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি সেখানের কোন বিক্রেতা।

এছাড়াও সেখানে অধিকাংশ তরুণ-তরুণী ক্রেতা হওয়ায় মাঝে মধ্যে ছোট খাটো হাতাহাতি-মারামারি ঘটনা ঘটে থাকে। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়ও সেখানে কয়েকজন যুবকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘আগেও সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা অতি শিগ্রই সেখানে আবারও অভিযান চালাবো।’

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top