মিশা-জায়েদদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এই নায়িকার

image-246713.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : ৪০টিরও বেশি সিনেমার নায়িকা সুমনা জনা। ২০১০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত শেষ সিনেমা ‘বাজাও বিয়ের বাজনা’। এরপর থেকে গত প্রায় এক যুগ আর কোনো সিনেমায় মুখ দেখাননি অভিনেত্রী। স্বামীর সঙ্গে থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ আছে। যার কারণে মাঝেমধ্যেই দেশে আসেন জনা।

তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দেশে এসেছেন এই চিত্রনায়িকা। উদ্দেশ্য শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়া। কিন্তু জনার এই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। কারণ, যে ১৮৪ জন শিল্পী তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন অভিযোগে এফডিসিপাড়া সরগরম, জনা তাদেরই একজন। দেশে ফেরার পর নায়িকা জানতে পেরেছেন, তিনিও এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনা। তার অভিযোগ বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানদের দিকে। নায়িকা বলেছেন, শিল্পী সমিতির বিদায়ী কমিটিই তার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোন দোষে ভোটাধিকার হারালেন এই নায়িকা?

অভিযোগের সুরে জনা সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ‘আমি নিয়মিত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে চাঁদা দেই। বার্ষিক পিকনিকেও কয়েক বার অর্থ সহযোগিতা দিয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে এক বছর দেশে আসতে পারিনি। তাই সমিতির চাঁদা দিতে একটু দেরি হয়েছে। এই অজুহাতে আমার ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন : প্রযুক্তির নতুন আবিষ্কার, দাম কমবে কম্পিউটার-ফোনের

মিশা-জায়েদের আঙুল তুলে নায়িকা বলেন, ‘কয়েকবার মিশা-জায়েদ ও সমিতির কোষাধ্যক্ষ জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম চাঁদা দেওয়ার জন্য। তারা আমাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেননি। গত ১৩ ডিসেম্বর দেশে এসেছি। এরপর থেকে চাঁদা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছি। ২৭ ডিসেম্বর চাঁদা দিতে গেলে জাকির জানান, জায়েদ খান ছাড়া কেউ চাঁদা নিতে পারবেন না।’

জনা বলেন, ‘আমেরিকা থাকাকালীন একবার চাঁদা পাঠিয়েছিলাম। তখন জায়েদ বলেছিল, সরাসরি স্বাক্ষর করে রসিদ নিতে হবে। পরে ৫ জানুয়ারি জায়েদকে ফোন দিলাম। তিনি জানান, চাঁদা দেওয়ার সময় শেষ। আমি তার কথা বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু পরে জানতে পারি, অন্য সদস্যদের চাঁদা নেওয়া হয়েছে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এভাবেই মিথ্যাচার করে আমার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

নায়িকা এও জানান, ‘মিশা-জায়েদ প্যানেল মনে করেছিল, চাঁদাসংক্রান্ত ঝামেলা মিটলে আমি হয়তো ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের সমর্থন করব। এটা তাদের ভুল ধারণা। আমি বুধবার পর্যন্ত কোনো পক্ষের সমর্থক ছিলাম না। ১১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের একজনকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি আশাও দিয়েছিলেন। পরে জানান, আমি ভোট দিতে পারব না। খুব কষ্ট পেয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি মন-প্রাণ দিয়ে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলকে সমর্থন করব। কারণ মিশা-জায়েদ প্যানেল আমাকে ঠকিয়েছে।’

২০০২ সালে ‘হৃদয়ের বাঁশি’ সিনেমাটির মধ্য দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক হয়েছিল জনার। প্রথম সিনেমায় তার নায়ক ছিলেন শাকিল খান। পরবর্তীতে মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিব খানসহ জনপ্রিয় সব নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৪০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে পাড়ি জমান মার্কিন মুলুকে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top