খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আমরণ কর্মসূচিতে

139412666_2858692151028229_8164050858099191826_o.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সেই আল্টিমেটাম আমলে না নেওয়ায় আমরণ কর্মসূচি শুরু করেছে ওই দুই শিক্ষার্থী। একইসাথে ফের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় খুবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা আমরণ কর্মসূচি শুরু করে। এই দুই শিক্ষার্থী হলেন, বাংলা ডিসিপ্লিনের মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নোমান (১৮ ব্যাচ) এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ইমামুল ইসলাম (১৭ ব্যাচ)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খুবি শিক্ষার্থীদের ৫ দফা আন্দোলনে যুক্ত থাকায় অসদাচরণের অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

দুই শিক্ষার্থী বলেন, গত শনিবার প্রেস কনফারেন্স করে প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার সময় দিয়েছিলাম আমার, অন্যায্য শাস্তি প্রত্যাহারের জন্য। কিন্তু প্রশাসন এই সময়ের মধ্যে আমার শাস্তি প্রত্যাহার করেনি। তাই আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং দেশবাসীকে সাক্ষী রেখে আজকে থেকে আমরণ কর্মসূচি শুরু করছি। এই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যদি আমার অন্যায্য শাস্তি প্রত্যাহার না করা হয় তবে আমি আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব। আমি দেশবাসীকে বলছি এই বহিষ্কার প্রত্যাহার না করলে এবং এই বহিষ্কারের সংবাদ শুনার পর আমার আব্বা-আম্মার কিছু হলে, তার জন্য দায়ী থাকবে আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবারও বলছি অন্যায়ের বিপক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আমি আমার জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। আশা করছি এই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রশাসন আমার বিরুদ্ধে নেওয়া অন্যায্য শাস্তি প্রত্যাহার করবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সাথেই আছেন তাই আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

শিক্ষার্থীরা জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে ছিল বেতন কমানো, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও ছাত্রবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব প্রফেসর মো. শরীফ হাসান লিমন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তদন্ত ও একাডেমিক কার্যক্রমে বাঁধা সৃষ্টি করার দায়ে ওই দুই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: নিরাপত্তা সতর্কতা!!!