খুলনা মহানগরীর সড়কগুলোতে ফিরতে বসেছে স্বস্তির নিশ্বাস

bvfjb.jpg

খুলনা মহানগরীর সড়কগুলোতে ফিরতে বসেছে স্বস্তির নিশ্বাস। কমছে নিত্যদিনের দুর্ভোগ। খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার পর যানযট মুক্ত সড়ক ফিরে পেয়েছে। শহরে কমেছে যানজট, নেই ট্রাফিক ও কমিউনিটি পুলিশের হৈহুল্লর আর লাঠি নিয়ে তাড়ার দৃশ্য। এ যেনো এক নতুন নগরী। স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছে নগরবাসী। দীর্ঘদিন পরে হলেও কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের হস্তক্ষেপে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিদ্যুৎ খাদক বাহন ইজিবাইকের চলাচল নিষিদ্ধ করায় এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নগরবাসী।

এই সিদ্ধান্ত স্থায়ীভাবে বলবৎ এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রন করা গেলে পুরাপুরি যানজটমুক্ত নগরী গড়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেছেন সাধারণ মানুষ।

যদিও ইতোঃপূর্বে যানজট নিরসনে নেয়া হয়েছিল নানা পরিকল্পনা এবং মহাপরিকল্পনা। একাধিকবার দেখা গেছে ইজিবাইকের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কেসিসি, পুলিশ ও প্রশাসন। কিন্তু কিছুদিন পর আবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ফের শুরু হয় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ইজিবাইকের চলাচল। একইসাথে ইজিবাইক ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় চালকদের প্রধান পছন্দ এ যানটি। এতে স্থানীয়ভাবেও বাহনটি তৈরির কারখানা গড়ে উঠে। আর অনেক স্বচ্ছল পরিবারের লোকজনও ইজিবাইক কিনে তা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠে ইজিবাইকের শো-রুম, মেরামতের জন্য গ্যারেজ ও ব্যাটারির জন্য চার্জার স্টেশন।

আজ মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারী) থেকে খুলনা মহানগরীতে শহরের বাইরের ইজিবাইক প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা ও কর্যক্রম চালু হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে শহরে বাইরের ইজিবাইক যেন মহানগরীতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের টহল বসেছে। এতে শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ চালিত ইজিবাইক। পূর্বের তুলনায় শহরের বিভিন্ন সড়কে আজ কম পরিমানে ইজিবাইক লক্ষ্য করে গেছে।

সড়কে নিত্যদিনের যানজট না থাকায় লাখো মানুষের প্রতিদিনের মতো আজ আর বিড়াম্বনায় পড়তে হচ্ছে না। শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে পৌঁছাতে আগের তুলনায় কম সময় লাগছে। সহজে যাতায়াত করতে পারছে জনসাধারণ।

আব্দুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, অতিরিক্ত পরিমানে ইজিবাইক থাকার কারণে রাস্তায় আমাদের যনজাটে পড়তে হত। যাত্রীর তুলনায় ইজিবাইকের পরিমান বেশি থাকার কারনে চালক স্টেশন ছাড়ায় খেয়াল খুশিমত রাস্তার বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তুলে। এতে করে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। কিন্তু আজ শহরে ইজিবাইক কিছুটা কম দেখে ভাল লাগছে।

কলেজ শিক্ষার্থী তুসরিয়া জাহান তমা বলেন, শহরে অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারনে আমাদের ক্লাসে পৌঁছাতে প্রায় দেরি হত। তবে এবার হয়তো আমরা নির্বিগ্নে যাতায়াত করতে পারব।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের কাছে স্বল্প খরচে নির্দিষ্ট গন্তেব্যে আসা-যাওয়ার জন্য ইজিবাইক পছন্দের বাহন হয়ে দাঁড়ালেও যাত্রী চাহিদা ঘিরে খুলনা মহানগরীতে এ বাহনটির সংখ্যা দিন দিন সীমা ছাড়িয়ে ছিল। ধীরে ধীরে নগরীতে এটির সংখ্যা ৩০ হাজারের উর্ধে যায় । নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গড়ে উঠে ইজিবাইকের অঘোষিত স্ট্যান্ড। আর এসব স্ট্যান্ড ঘিরে একটি চক্র শুরু করে চাঁদাবাজি। প্রতিদিন বিভিন্ন মোড় থেকে তোলা হতো লাখ টাকা। মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকার ভাড়ায় যাতায়াতে যে সুবিধা ইজিবাইক দিতো তার চেয়ে বেশি যন্ত্রণা দিতো এ বাহনটি ঘিরে সৃষ্ট যানজট। কেবল তাই নয়, প্রতিদিন নগরীতে চলাচলকারি ইজিবাইকের ব্যাটারি চুষে নিতো লাখ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ।

এছাড়াও ইজিবাইকের বেপোরোয়া চলাচল প্রতিনিয়ত দুঘর্টনা ঘটিয়ে পথচারি এবং ও বাহনের যাত্রীদেরও আহত করতো। আবার কেড়ে নিতো অনেকেরই প্রাণ।

সচেতন নাগরিক সমাজ ইজিবাইকের চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। কারণ এটি কম খরচে যাত্রী সেবার নামে নগরীতে যানজট সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনায় পথচারিদের পঙ্গু ও মৃত্যুর পথে নিয়ে যাচ্ছে। তারা ইজিবাইক চলাচল সীমাবদ্ধকে পুঁজি করে যাতে রিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে এ ব্যাপারেও প্রশাসনের ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top