ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণা

khulna-3.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার কয়রায় সরকারি ঘরের তালিকায় নাম তুলতে এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে একটি প্রতারক চক্র। এ চক্রের সদস্যরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইউএনও’র প্রতিনিধি পরিচয় দিচ্ছেন। আবার মানুষের বিশ্বাস স্থাপনে নিজেদের মোবাইল ফোনে কথিত ইউএনও’র নাম্বারে কল করে কথা বলিয়েও দিচ্ছেন তারা। সরাসরি ইউএনও’র সাথে কথা বলে সরল বিশ্বাসে তাদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন মানুষ। এভাবে গত দুই মাসে প্রায় ৫শ মানুষের কাছ থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

ঘটনা জানাজানির পর আব্দুস সাত্তার সরদার নামে এক প্রতারককে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায় ভুক্তভোগীরা। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আব্দুস সাত্তার কালনা গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে।

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, আব্দুস সাত্তার ও তার কয়েক সহযোগী মিলে সরকারি ঘরের তালিকায় নাম তোলার কথা বলে টাকা আদায় করছিলেন। তারা উপর মহলে ঘুষ দিয়ে ঘর পাইয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে কারো কাছ থেকে ৪ হাজার কারো থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। তাদের প্রতারণার কৌশল জানতে পেরে গ্রামবাসি আব্দুস সাত্তারকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্য মতে গত দুই মাসে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৫ শতাধিক মানুষকে প্রলুব্ধ করে টাকা নিয়েছেন। তার অন্য সহযোগীদের ধরার চেষ্টা চলছে।

এদিকে প্রতারণার খবর জানাজানি হওয়ার পর শত শত মানুষ টাকা ফেরতের আশায় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভীড় করছেন।

সেখানে উপস্থিত শ্রীরামপুর গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমার তিন ভাইয়ের জন্য পাকা ঘরের আশায় সাত্তারের কাছে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন শুনতেছি সে ঘর দেওয়ার কেউ না।’

কালনা গ্রামের আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘ঝড়ে মেয়ের ঘর ভেঙে যাওয়ায় নাতি-নাতিনদের নিয়ে খুব কষ্টে আছে। এ কারনে পাকা ঘর পাওয়ার আশায় ছাগল বিক্রি করে সাত্তারের কাছে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। টাকা নেওয়ার সময় সে ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছে।’

একই গ্রামের সিরাজুল মোল্যা বলেন, ‘ছেলের চাকরি পাইয়ে দিতে সাত্তারের কাছে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি। সে টাকা নেওয়ার সময় মোবাইলে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছে।’

কালনা বাজারের ব্যবসায়ি মহসীন মোল্লা জানান, তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় বিষয়টি সন্দেহ হয়। তখন তিনি ইউএনও’র সাথে কথা বলতে চাইলে মোবাইলে তাকে (কথিত ইউএনও) ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি কৌশলে ওই নাম্বারটি দেখে নেন। পরে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে জানতে পারেন সাকিব নামে এক ব্যাক্তি অপর প্রান্ত থেকে কথা বলছেন। ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে দিলে গ্রামের লোকজন সাত্তারকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। এ চক্রে সাত থেকে আটজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, সাকিব নামে এক ব্যাক্তি ইউএনও সেজে মোবাইল ফোনে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। প্রতারক চক্রের একজন আটক হওয়ায় অন্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, এভাবে আর কেউ যাতে প্রতারণার স্বীকার না হয় সেজন্য এলাকায় মাইকিং করে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top