স্কোয়াশ চাষে সফল রাণীনগরের নিরাঞ্জন

123305raninagar.jpg

ডেস্ক রিপোর্ট : নওগাঁর রাণীনগরে পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশী সবজি স্কোয়াশ চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রদর্শন এর আওতায় কাশিমপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের চাষি নিরাঞ্জন সরকার স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বাজারজাত। ফলন ও দাম ভালো পেয়ে খুশি চাষি নিরাঞ্জন। আগামীতে আরো বড় পরিসরে এই ফসল চাষের আশা দেখছেন।

স্কোয়াশ অনেকটা বাঙ্গির মতো দেখতে ও মিষ্টি কুমড়ার স্বাদে পুষ্টিকর অষ্ট্রোলিয়ান একটি সবজি। স্কোয়াশ রাণীনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ শুরু হলেও বাজারে এর চাহিদা ও দাম আশানুরুপ রয়েছে। সবজি হিসেবে এই জনপদে স্কোয়াশ সবজি নতুন হওয়ায় এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে স্থানীয় অন্যান্য চাষিরাও আসছেন নিরাঞ্জননের স্কোয়াশ দেখতে।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশিদের কলকাতা যেতে মানতে হবে যেসব বিধিনিষেধ

জানা গেছে, উপজেলা কাশিমপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত নারায়ন চন্দ্র সরকারের ছেলে নিরাঞ্জন সরকার বেশ কয়েক বছর আগে থেকে তার বাবার সাথে নানা জাতের সবজি চাষ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। কিছুদিন আগে বাবা মারা যাবার পর পুরো সংসার চালাতে বাড়ির আশে পাশে বেশ কিছু জমিতে পুরোদমে নানা জাতের সবজি চাষ শুরু করে। তার এই সবজি চাষের আগ্রহ দেখে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শহীদুল ইসলাম আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্কোয়াশ সবজি চাষ করতে তাকে পরামর্শ দেন। এর ধারাবাহিকতায়  ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে কৃষি অফিসের তত্বাবধানে প্রশিক্ষণ শেষে বীজ সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে নিরাঞ্জনকে দিয়ে তার পৈত্রিক ২৫ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো স্কোয়াশ চাষ শুরু করে।

চাষি নিরাঞ্জন এরইমধ্যে প্রতিদিন তার ক্ষেত থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি পরিমাণ স্কোয়াশ তুলে পাইকারী এবং খুচরা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। উৎপাদন ব্যায় সবকিছু কৃষি অফিসের সহযোগীতা থাকায় শুধুমাত্র শ্রমিকের খরচ বাদ দিয়ে পুরোটায় তার লাভের খাতায় জমা হচ্ছে।  প্রায় ৩৫ দিনের মধ্যেই গাছে দুই/তিনটি করে স্কোয়াশ ফল ধরতে শুরু করে।  পরীক্ষামূলকভাবে স্কোয়াশ চাষ করে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিবিড় পরিচর্চা ও কোন রোগ-বালাই না হওয়ায় এবং স্বল্প খরচে ভাল ফলন পেয়ে  লাভবান হওয়ায় চাষিদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছেন তিনি।

রাণীনগর উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান আতিক জানান, এই স্কোয়াশ চাষ আমাদের অফিস থেকে প্রজেক্ট আকারো পরীক্ষামূলক ভাবে চাষি নিরাঞ্জনকে দেওয়া হয়েছে তবে আমরা খুব বেশি ফলনের আশা করছি। এ খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় এই সবজি চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি।

ফেসবুকের সাথে কমেন্ট করুন

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top